WBCS/WBPSC/RAIL/SSC Geography Short Note in Bengali | রাজ্য কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য সম্পূর্ণ বাংলায় ভূগোল নোট || পর্ব - ০৩

  

WBCS/WBPSC/RAIL/SSC Geography Short Note in Bengali | রাজ্য কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য সম্পূর্ণ বাংলায় ভূগোল নোট || পর্ব - ০৩    

WBCS/WBPSC/RAIL/SSC Geography Short Note in Bengali

Hello Freinds, 

                       রাজ্য কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে আমরা আজও ভুগোলের উপর সম্পূর্ণ বাংলায় আরো একটি  সংক্ষিপ্ত নোট তোমাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি | WBCS/Rail/WBP যেকোনো পরীক্ষাই হোক ভূগোল বেশ কিছু প্রশ্ন জিকে বিভাগে আসতে দেখা যায় তাই আমাদের এই নোটস গুলো তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি তে খুবই সাহায্য করবে , তবে আর দেরী কেন দেখে নাও ভূগোল শর্ট নোট পর্ব - ০৩ এবং চাইলে নিচে দেওয়া লিংক থেকে পিডিএফ টিও ডাউনলোড করে নিতে পারো    ↓↓↓↓↓↓



ভারতীয় মরুভুমি : আরাবল্লী পর্বত এবং সিন্ধু ও শতদ্রু বিধৌত সমভূমি অঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত থর মরুভুমিকেই সাধারণ ভাবে ভারতীয় মরু অঞ্চল বলা হয় । রাজস্থান রাজ্যের জয়সলমীর বিকানীর ও যোধপুর জেলা এবং পাকিস্তানের খয়েরপুর ও বাহাওয়াল অঞ্চলে থর মরুভুমি বিস্তারলাভ করেছে । ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পূর্ব থেকে পশ্চিমে ভারতীয় মরু অঞ্চলকে ৫ ভাগে ভাগ করা যায় - বাগার অঞ্চল রোহি ক্ষুদ্র মরু অঞ্চল পাথুরে অঞ্চল বা হামাদ বালুকাময় অঞ্চল বা মরুস্থলী ।

 

বাগার অঞ্চল : আরাবল্লী পর্বতের পাদদেশে মরুভুমির একেবারে পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত এই অঞ্চলটি মরুভুমি ও সমভূমি মধ্যবর্তী অংশে অবস্থিত অল্প বালুকাময় স্থান । এখানকার অধিকাংশ অঞ্চল ঘাসে ঢাকা এর মধ্যে কোথাও কোথাও কৃষিকাজ হয় । রাজস্থান খাল এই অঞ্চলের কৃষিকাজের প্রসারে ব্যাপকভাবে সাহায্য করেছে ।

 

রোহি : আরাবল্লী পর্বতের পশ্চিম ঢাল থেকে কয়েকটি নদী বেরিয়ে এসে মরুভূমির মধ্যে দিয়ে পশ্চিমদিকে কিছুদূর পর্যন্ত প্রবাহিত হওয়ার পর মরুভূমির বালির মধ্যে শুকিয়ে গেলেও এদের দুই তীরে পলি জমে প্লাবনভূমির সৃষ্টি করেছে । বাজার অঞ্চলের পশ্চিমদিকে অবস্থিত এই অঞ্চলের নাম রোহি । এই অঞ্চল বেশ উর্বর ।

 

ক্ষুদ্র মরু অঞ্চল : রোহি অঞ্চলের পশ্চিমদিকে ক্ষুদ্র মরু অঞ্চল অবস্থিত । প্রকৃতপক্ষে এখান থেকে আসল মরুভুমি অঞ্চল শুরু হয় ।

 

পাথুরে অঞ্চল বা হামদা  : ক্ষুদ্র মরু অঞ্চলের পশ্চিমদিকে  বালিযুক্ত নরম শিলাস্তর দিয়ে গঠিত পাথুরে বা প্রস্তরময় অঞ্চল আছে । এই অঞ্চলকে স্থানীয়ভাবে হামদা বলে ।

 

বালুকাময় অঞ্চল বা মরুস্থলী : এই অঞ্চলটি সর্ব পশ্চিমে অবস্থিত এবং ভারতীয় সীমান্ত ছাড়িয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছে । এই অঞ্চলে মাইলের পর মাইল জুড়ে শুধু বালি আর বালি । কোথাও সবুজের চিহ্ন মাত্র নেই । মরুভূমির ভয়াল রূপটি এখানে পরিস্ফুট হয়েছে । মরুভূমির এই অংশকে মরুস্থলী বলা হয় । মরু অঞ্চলের অনেক জায়গায় বায়ু প্রবাহের প্রভাবে বালিয়াড়িগুলোর অবস্থান পরিবর্তিত হয়ে যায় । আপাতদৃষ্টিতে চলনশীল এইসব বালিয়াড়ি ধ্রিয়ান নাম পরিচিত । স্থানীয় অধিবাসীরা এইসব বালির পাহাড়কে টিব্বা বলে । মরু অঞ্চলের নীচু অংশগুলোতে বেশ কয়েকটি লবনাক্ত জলের হ্রদ দেখা যায় । স্থানীয়ভাবে এদের রান বলা হয় । অনেক সময় মরুভূমির দুটো সমান্তরাল বালিয়াড়ির মধ্যবর্তী অঞ্চলকে দীর্ঘাকার হ্রদ দেখা যায় যারা বছরের বেশিরভাগ সময়েই শুকনো থাকে । এইসব হ্রদ স্থানীয়ভাবে ধান্দ নাম পরিচিত ।

 

চ) উপকূলের সমভূমি : ত্রিভুজাকৃতি দাক্ষিণাত্যের মালভুমি অঞ্চলের পূর্ব প্রান্তে বঙ্গপ্রসাগর এবং পশ্চিমপ্রান্তে আরব সাগরের উপকূল বরাবর সংকীর্ণ সমভূমিকে ভারতীয় উপকূলবর্তী সমভূমি অঞ্চল বলা হয় যা পশ্চিম উপকূলের সমভূমি এবং পূর্ব উপকূলের সমভূমি - এই দুই ভাগে বিভক্ত ।

 

পশ্চিম উপকূলের সমভূমি : পশ্চিমে আরব সাগরের উপকূলবর্তী সংকীর্ণ ও বন্ধুর সমভূমিটি উত্তর দিকে গুজরাটের সমভূমি অঞ্চলে খানিকটা চওড়া হয়ে গেছে । কচ্ছ উপদ্বীপ এবং কচ্ছের রণ অঞ্চলকে নিয়ে গঠিত গুজরাট উপকূলের সমভূমি প্রকৃতিতে একটি প্রশস্ত সমতলভূমি ।

 

কোনও এই সময় কচ্ছের রণ অঞ্চলটি আরব সাগরের একটি প্রসারিত অগভীর অংশ ছিল কিন্তু বর্তমানে গ্রীষ্মকালে এই অঞ্চলটি সম্পূর্ণ শুস্ক উদ্ভিদহীন ও সাদা লবনে ঢাকা বালুকাময় প্রান্তরে ( সমভূমি অঞ্চলে ) রূপান্তরিত হয় ।

 

      কচ্ছ উপসাগর ও খাম্বাত উপসাগর নামে আরব সাগরের দুটি প্রসারিত অংশ গুজরাট সমভূমির মধ্যে কিছুদূর পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে । কচ্ছ  অঞ্চলের কিছুটা দক্ষিণে অবস্থিত কাথিয়াবার উপদ্বীপ অঞ্চলটি সৌরাষ্ট্র নামেও পরিচিত । গিরনর সৌরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পাহাড় । ভারতের পশ্চিম উপকূলের সমভূমি মহারাষ্ট্রে কোঙ্কন উপকূল কর্ণাটকের কানাড়া উপকূল এবং কেরালায় মালাবার উপকূল নাম পরিচিত । উত্তর বিভিন্ন নদীর মোহনা এব্বং দক্ষিণে কেরালার উপকূলে ছোট বড়ো হ্রদ এবং উপহ্রদ বা কয়ালের উপস্থিতি  হলো পশ্চিম উপকূলের অন্যতম ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য । প্রায় ৬৩ কিমি লম্বা 'ভেম্বানাদ কয়ালএই অঞ্চলের বৃহত্তম উপহ্রদ ।

 

পূর্ব উপকূলের সমভূমি : ভারতের পূর্ব প্রান্তে বঙ্গপ্রসাগর উপকূলের সমভূমি পশ্চিম উপকূলের সমভূমির তুলনায় বেশি চওড়া ও সমতল । সমগ্র উপকূলের সমভূমিটি গোদাবরী বদ্বীপের উত্তরে উত্তর সরকার উপকূল এবং গোদাবরী বদ্বীপের দক্ষিণ করমণ্ডল উপকূল নাম পরিচিত । পূর্ব উপকূলের সমভূমিতে অনেকগুলো হ্রদ আছে এর মধ্যে ওড়িশা উপকুলের চিল্কা ও কোলেরু এবং অন্ধ্র উপকূলের পুলিকট উল্লেখযোগ্য হ্রদ |



ছ) দ্বীপপুঞ্জ : 


আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ : ভারতের পূর্ব দিকে কলকাতা থেকে প্রায় ১,২৫৫ কিমি ও চেন্নাই থেকে ১,১৯১ কিমি দূরত্বে বঙ্গোপসাগর এর দক্ষিণ-পূর্ব অংশে অবস্থিত প্রায় ৩২৮ টি দ্বীপের মধ্যে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জই প্রধান । এই অঞ্চলের অন্য সব দ্বীপগুলো আয়তনে খুবই ছোটো হওয়ায় ও পানীয় জলের অভাবের জন্য জনবসতিহীন । গোটা আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত যথা - বড় আন্দামান ও ছোটো আন্দামান । নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দ্বীপগুলোর মধ্যে দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত বৃহৎ নিকোবর দ্বীপটি সবচেয়ে বড় । এই দ্বীপের দক্ষিণের শেষ প্রান্তটির  নাম ইন্দিরা পয়েন্ট , এটি ভারতের দক্ষিণতম স্থলবিন্দু । 


                 আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ( মোট আয়তন ৮,২৯৩ বর্গ কিমি ) দুটি ১০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত ১০ ডিগ্রি চ্যানেল নামে গভীর সাগর দ্বারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে । ভূ-প্রাকৃতিক দিক থেকে ের গভীর সমুদ্রে ডুবে থাকা মায়ানমারের আরাকান ইয়োমো পর্বতের একটি অংশ , যা সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে গিয়ে পূর্বদিকে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও জাভাদ্বীপ পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে । আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নারকনডম ও ব্যারেন দ্বীপে দুটি সবিরাম আগ্নেয়গিরি আছে । 


লাক্ষা দ্বীপপুঞ্জ : ভারতের পশ্চিম দিকে কেরালা উপকূল থেকে প্রায় ৩২৪ কিলোমিটার দূরত্বে ৩৬ টি ছোটো ছোটো প্রবল দ্বীপ অবস্থিত । লাক্ষা , আমিনদিভি ও মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জের সরকারি নাম রাখা হয়েছে লাক্ষাদ্বীপ । 


       লাক্ষা , আমিনদিভি ও মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জের মোট আয়তন ৩২ বর্গ কিলোমিটার মাত্র । মিনিকয় দ্বীপটি হল এই দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দ্বীপ , এর আয়তন ৪.৫০ বর্গ কিমি । ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, আরাবল্লী পর্বতের সম্প্রসারিত শিলাস্তরের ওপর যুগ যুগ  ধরে আরব সাগরের প্রবাল কীটদের মৃত দেহবিশেষ স্তরে স্তরে সজ্জিত হয়ে এই দ্বীপপুঞ্জের সৃষ্টি হয়েছে । 

      

  

File Details :

File Type : pdf
File Location : Google drive
File Size : 412 kb 

 

 


Post a Comment

0 Comments